বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

POST NO. 23 ফ্যান্টম- ডেভিলের পূর্বপুরুষের গল্প- "নেকড়ের কান্না"

বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই?আশা করি ভালোই আছেন।আজ আন্তর্জাতিক মহান ভাষা দিবস।তবে, আন্তর্জাতিকতার তকমা দিলেও এই দিনটা ইতিহাসে কিন্তু শুধুমাত্র বাঙ্গালী জাতির গর্বের দিন।কারণ,বাংলা ভাষা নিয়ে বাংলাদেশে ঘটা এমন রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম পৃথিবীর আর কোনো দেশে ঘটেনি।বা বলা যায় ভাষা নিয়ে এমন বিদ্রোহ,বিশ্বের আর কোনো দেশে হয়নি।শত শত ভাই/বোনেদের রক্তে রঞ্জিত আজকের এই দিন।দুঃখের বিষয় আমরা ক্রমশঃ আমাদের মাতৃভাষাকে ভুলে যাচ্ছি।তার জায়গায় গ্রহণ করে নিচ্ছি বৈদেশিক ভাষা।কিন্তু আমি আমার মায়ের ভাষাকে কী ভাবে ভুলি ? আমি একজন অনুবাদক।বাংলা ভাষায় কমিক্স অনুবাদ করি।যাতে আপনারা বাংলা ভাষায় বিদেশী কমিক্স পড়তে পারেন।এটা আমার দায়িত্ব।এটা আমাদের দায়িত্ব-যে,আমরা যতই আমাদের কর্মসূত্রের কারণে বৈদেশিক ভাষাকে গ্রহণ করি না কেন,নিজের মাটির ভাষা নিজের বাংলা ভাষাকে না ভুলি। 

আজ এই শুভদিনে আপনাদের জন্যে নিয়ে এলাম Wolf Publishing(সম্পাদকীয় কার্য্যালয় লন্ডনের বার্নিংহাম শহর) থেকে প্রকাশিত একটি ফ্যান্টম কমিক্স, সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায়। এর আগে একই প্রকাশনীর "কোলোসাস" গল্পটি ব্লগে দিয়েছিলাম।
Wolf  Publishing সংস্থা ১৯৯২ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ফ্যান্টমের মাত্র  ৯ টি সংখ্যা প্রকাশ করে। তারপরে বাণিজ্যিক প্রতিকূলতার কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। ফ্যান্টমের এই কাহিনি গুলি কিন্তু লি-ফকের নয়, বরং প্রতি সংখ্যার জন্যে গল্পগুলি লিখেছিলেন আলাদা আলাদা লেখক, চিত্রাঙ্কণও আলাদা আলাদা শিল্পীর। 
আজকের কমিক্সটি wolf issue#6 The Winter Of the Wolf”( Fantomen Nr.15 1992)-এর বঙ্গানুবাদ। এছাড়াও গল্পটি Frew issue 1032 তে প্রকাশিত হয় Wolf এর বইটির প্রচ্ছদ শিল্পী - মাইক কলিন্স, গল্প- সাভার আরনেস; কমিক্স শিল্পী- সিজার স্পাডারি।

প্রতিমাসে বেরোনো এই সংখ্যাগুলি ছিল ৩৬ পাতার আর পুরোটাই রঙ্গীন।এই উদ্যোগের পেছনে থাকা কলাকুশলীরা নিজেদের পরিচয় দিতেন “Team Fantomen” নামে।
  
 ডেভিলের পূর্বপুরুষের গল্প- "নেকড়ের কান্না"
                           


নীচের link থেকে ডাউনলোড করুন

আমার এক ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা



কেমন লাগলো অবশ্যই জানাবেন। 

সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

POST NO. 22 রোমাঞ্চ কমিক্স -০১

আমি কমিক্স অনুবাদ করছি অনেকদিন হয়ে গেল।প্রথমদিকে খেলার ছলেই করতাম।তখন আমার এই ব্লগ ছিল না।তাই আমি আমার অনুবাদ গুলোকে প্রকাশ করতে পারিনি।এর পরে আমি ফেসবুকে একটা পেজ বানলাম।সেখান থেকে অনেকের সাথে আলাপ হলো।এর পরে যা যা কমিক্স অনুবাদ আমি করেছি,তা অবাণিজ্যিক ভাবে অনেক পত্রপত্রিকা ও ওয়েব ম্যাগ-এ প্রকাশিত হয়েছে।যার পথ চলা শুরু হয়েছিল, 'বুক ফার্ম'-এর কর্ণধার শ্রী শান্তনু ঘোষ দাদা'র হাত ধরে।আমার অনূদিত কমিক্স প্রথম ছাপা হয়,'কমিক্স ও গ্রাফিক্স-২ 'পত্রিকায়।তারপর থেকে একে একে অয়ন রাহা দা'র হাত ধরে 'ঝিল মিল' পত্রিকা,ভাতৃপ্রতিম সৌমলেন্দু'র ' অদ্ভূতুড়ে' পত্রিকা ,সন্তু বাগ দাদা'র "কল্পবিশ্ব -ওয়েব ম্যাগ" ইত্যাদিতে।তাঁরা আমাকে আবার সুযোগ দিলে আমি আবার তাঁদের জন্যে কিছু করার সুযোগ পাবো।

যাই হোক,আমার একদম শুরুর কাজ গুলো ধামা চাপা পড়ে গেছিল।তাই ভাবলাম এগুলোকে আলোয় আনি।এই ধরণের অনুবাদ কমিক্সের সংখ্যা আপাতত ২০ এর বেশী।আমি এই ভাবে প্রতি সংকলনে ৪ টি করে কমিক্স দেব।আজ থাকলো আমার সেই প্রচেষ্টার প্রথম দলিল।


                                 
                                    নীচের Link থেকে ডাউনলোড করুন-
 http://www.mediafire.com/file/795zwap2s9d9di2/ROMANCHO+COMICS+%28COMIC+ONUBAD%29.cbr

POST NO. 21 লরেল আর হার্ডি- সমুদ্র ভ্রমণ


স্ল্যাপষ্টিক কমেডি(যাতে আছে প্রবল হাস্যরস ও হিউমার)-এর ইতিহাসে এমন কয়েক জনের 
নাম রয়েছে যাঁরা সময়ের পরীক্ষায় দাঁড়িয়েছেন।এঁনারা কয়েক প্রজন্মের পর প্রজন্ম থেকে শুরু করে আধুনিক হাস্যরসের জন্য আজও সমাদৃত।এঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ষ্ট্যান লরেল এবং অলিভার হার্ডি।
আর্থার ষ্ট্যানলী জেফারসন
 (ষ্ট্যান লরেল),১৮৯০ সালের ১৬ই জুন ল্যাঙ্কশায়ারের আলভাসটনে জন্ম গ্রহণ করেন।তিনি একাধারে যেমন ছিলেন কৌতূকাভিনেতা অন্য দিকে ছিলেন লেখক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা।তিনি “ফ্রেড কার্নোস আর্মি” নামক নাট্য দলে কাজ করতেন।যেখানে তিনি চার্লি চ্যাপলিনের চরিত্রে অভিনয় করতেন।লরেল নিজের ফিল্ম ক্যারিয়ার শুরু করেন ১৯১৭ সালে।১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি তাঁর ‘ননসেন্সিক্যাল’ কমেডির মাধ্যমে সারা দুনিয়াকে হাসিয়ে গেছেন।১৯৬১ সালে তাঁকে ‘লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট’ পুরষ্কারে সম্মাণিত করা হয়।প্রসঙ্গতঃ উল্ল্যেখ্য তিনি এক প্রবাদ প্রতীম অভিনেতা অলিভার হার্ডির সাথে জুটি বাঁধেন তাঁদের এক সাথে প্রথম ছবি ছিল “দ্য লাকি ডগ”(১৯২১)।২৩শে ফেব্রুয়ারী ১৯৬৫ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান লরেল!

অলিভার নরভেল হার্ডি,১৮ই জানুয়ারী ১৮৯২ সালে জর্জিয়ার হারলেম শহরে জন্ম  গ্রহণ করেন।তিনি ছিলেন একজন নামজাদা আমেরিকান কৌতূকাভিনেতা।১৯২১ থেকে ১৯৬৫ পর্যন্ত তিনি কিছু নির্বাক ছবিতে কাজ করেন।অলিভার মোট ১০৭ টি ছবিতে,লরেলের সাথে জুটি বেঁধে ছিলেন।এর পাশাপাশি তিনি কিছু ক্যামিও চরিত্রেও অভিনয় করতে থাকেন।১৯১৪ সালে তিনি পরিচালনা  করেন “আউট উই  ড্যাড”।সেই সময়ে তিনি নিজেকে “বেব হার্ডি “ বলা পছন্দ করতেন।অত্যাধিক ধূম্রপান ও স্থূলকায় শরীরের কারণে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন ১৯৫৪ সালে।এর পরে টার্মিনাল ক্যানসারের ফলে তাঁর ওজন দ্রুত কমতে থাকে।১৯৫৬ থেকে ১৯৫৭ এই এক বছরে একাধিক ষ্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি কোমায় চলে যান।এবং শেষে ৭ই আগষ্ট ১৯৫৭ সালে ৬৫ বছর বয়সে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।লরেল সেই সময়ে নিজেও খুব অসুস্থ ছিলেন,তাই হার্ডির শেষ কৃত্যে যেতে পারেননি।দুঃখ করে বলেছিলেন “ Babe Would Understand”। নানা দেশে এই জুটি নানা নামে পরিচিত হলেও,আমাদের ভারতে এঁরা মারাঠী ভাষায় “Jaadya Aani Radya (जाड्या आणि रड्या) (Stout and Worrywart)”নামে পরিচিত।

                             নীচের link থেকে উনলোড করুন কমিক্স
http://www.mediafire.com/file/62t5c6ah46iv800/LAUREL+aar+HARDY+%28SOMUDRE+BHROMON%29.pdf

                                                                                                                                                 

POST NO. 20 কম্যান্ডার ষ্টীল

বাংলা ভাষায় প্রথমবার এলো কম্যান্ডার ষ্টীল!এতে আছে দুটি Action Packed কাহিনি।



নীচের Link থেকে ডাউন লোড করুন
http://www.mediafire.com/file/ld54o97alfmy5pm/COMMANDER+STEEL.pdf

POST NO. 19 হী ম্যান- ব্রহ্মান্ডের অধিপতি-কেলডরের সন্ধানে

১৯৮৬ সাল থেকে প্রকাশিত ম্যাটেল এর হী-ম্যান মিনি কমিক্স সিরিজের বেশীর ভাগ কাহিনি ডায়মন্ড কমিক্স-এ বেরিয়েছে।কিন্তু কিছু গল্প ডায়মন্ডড কমিক্স বের করেনি।আমার লক্ষ্য সেই সব অপ্রকাশিত (ভারতীয় ভাষায়)কাহিনি গুলিকে বাংলায় অনুবাদ  করে আমার ব্লগে প্রকাশ করা!আজ থাকলো হী ম্যান-এর এই কমিক্স টি আমার বন্ধুদের জন্যে!

                                নীচের link থেকে ডাউনলোড করুন
                http://www.mediafire.com/file/0g8n35il5pqdban/HE-
                    MAN+%28KELDORER+SONDHANE%29.pdf

রবিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

POST NO. 18 কালো বিছে-০২ "নিষ্পাপ ডাইনী"

বন্ধুরা,আমি আজকে আবার হাজির হলাম কালো বিছে(Skorpio) সিরিজের আর একটি কমিক্স নিয়ে।এর আগের কমিক্সটির বাংলা অনুবাদ আপনাদের কাছে ধণাত্মক ভাবে গৃহীত হয়েছে।আর তাই আমি খুব আনন্দিত ও আপ্লুত।আপনাদের এই ভালোবাসা আমাকে আগামীতে পথ চলার রসদ যোগাবে।এই সিরিজের বাকী সব কমিক্স পাবেন শুধু মাত্র আমার এই ব্লগে।
চিত্র শিল্পী আর্নেষ্টো গার্সিয়া সেইজাস
নিজের ষ্টুডিয়োয় সৃষ্টিতে মগ্ন শিল্পী 
আজ আমি এই কমিক্স সিরিজের চিত্র শিল্পী আর্গানেষ্টো গার্সিয়া সেইজাস সম্পর্কে দুচার কথা আপনাদের সাথে ভাগ করে নেবো। আর্নেষ্টো সেইজাসের জন্ম ১৯৪১ সালের পয়লা জুন।তিনি জন্মেছিলেন বুয়েনস এয়ারস এর রামোস মেজিয়া শহরে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে কমিক আঁকায় সেইজাসের হাতেখড়ি হয়।তাঁর অঙ্কিত প্রথম কমিক চরিত্রটি চিল,"বিলি ও জ শ"।এই কমিক্সটি প্রথম প্রকাশিত হয় আর্জেন্টিনার কমিক পত্রিকা "টোটেম"-এ।এরপর ধীরে ধীরে তিনি পাকাপাকি ভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন পেশাদার কমিক্স শিল্পী ও এক দক্ষ ইলাষ্ট্রেটার হিসেবে।১৯৫৮ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত তিনি যুক্ত ছিলেন "বুকানেরোস" নামে একটি পত্রিকার  সাথে। কার্টুনিষ্ট হিসেবে।১৯৭০ সালের শেষের দিকে গার্সিয়া চুক্তি বদ্ধ হন বিখ্যাত "কলম্বিয়া ষ্টুডিও"র সাথে।রবিন ঊড-এর কাহিনি অবলম্বনে তিনি আঁকতে শুরু করেন রোম্যান্টিক কমিক চরিত্র 'হেলেনা'।১৯৭৭ সাল থেকে তিনি রে কলিন্স এর সাথে জুটি বেঁধে আঁকতে শুর করেন 'স্করপিও ' কমিক।১৯৮৭ সাল থেকে নিজ খরচে "এল ক্ল্যারিন" সংবাদ পত্রের জন্যে আঁকতে থাকেন কার্লোস ট্রিলো রচিত এরোটিক কমিক্স স্ট্রিপ 'এল নেগরো ব্ল্যাঙ্কো'(যা পরে নাম পরিবর্তন করে হয়ে যায় 'ফ্লপি'), ভিভিয়ানা সেন্ট্রোল রচিত 'লা নেশিয়ন ',মাইক ব্র্যান্ডো রচিত 'লা প্রেনসা' ইত্যাদি কমিক্সগুলি।২০০৭ সালে  তিনি প্রথম আঁকেন 'টেক্স ঊইলার' কে নিয়ে কমিক্স 'পলিজিয়া অ্যাপাচে'।পাঠক মহলে সমাদৃত এই কমিক্স চরিত্রটির কান্ডকারখানা এখনও নিয়মিত ভাবে বেরুচ্ছে।
গার্সিয়াকে নিয়ে একটি ডকুমেন্টারী ফিল্ম তৈরী হয়েছিল



আজ এই পর্যন্তই থাক।বাকী কথা আগামী পোষ্টে হবে।
নীচের link থেকে Doenload করুন
http://www.mediafire.com/file/y9la23qaiflpl8w/KALO+BICHE+-02+%28PARTHO%29.pdf
গত পোষ্টে আমি ভুল করে রঞ্জন দা'র পদবী 'গঙ্গোপাধ্যায়' এর বদলে লিখে ফেলেছিলাম ছিলাম 'বন্দ্যোপাধ্যায়'।এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্যে আমি দুঃখীত! 

POST NO.17 ড্যাগন


“The oldest and strongest emotion of mankind is fear, and the oldest and strongest kind of fear is fear of the unknown”.

হ্যাঁ!ঠিক তাই।‘ভয়’, মানুষের এক আদিম ও শক্তিশালী আবেগ।আর এই আবেগকে নিয়েই আমাদের জীবন ধারণ।ভয় পেতে আমরা সবাই ভালোবাসি!ভালোবাসি রোমাঞ্চিত হতে!আর সেই ভয়ের উৎস যদি থাকে অন্য কোনো অজনা অচেনা দুনিয়ায়,তাহলে তো কথাই নেই!

ওপরের উক্তিটি পড়ে আপনারা এতক্ষণে বুঝেই গেছেন,আজ আমি কার কথা বলছি।হ্যাঁ,বন্ধুরা ঠিক ধরেছেন।আমি আজকে বলছি হরর ফিকশান জ্যঁরের যুগ পুরুষ হাওয়ার্ড ফিলিপস লাভক্রাফট-এর কথা।এই বিখ্যাত আমেরিকান লেখকের জন্ম ১৮৯০ সালের ২০শে অগষ্ট।আমেরিকার রোড আইল্যান্ড অঞ্চলে।তিনি মূলত লিখেছেন ভয়াল ভৌতিক ছোট গল্প-আর আমাদের সামনে খুলে দিয়েছেন অজানা অচেনা রহস্যময় এক জগতের দ্বার।১৫ ই মার্চ ১৯৩৭ সালে এই সাহিত্যিক শেষ নিঃশাস ত্যাগ করেন।

ড্যাগন” নামক ছোট গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালের জুলাই মাসে বিখ্যাত “ভ্যাগরান্ট” পত্রিকায়।এটিই তাঁর প্রথম কাহিনি যেটি তিনি মুলত লিখেছিলেন প্রাপ্তবয়ষ্কদের জন্যে।পরে এটি কমিক্স আকারে প্রকাশিত হয় মার্ভেল কমিক্স এর “ওরারিড টেলস “ পত্রিকায়।কিন্তু আজকে যে কমিক্সটি আমি দিতে চলেছি,সেটি সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গীকে প্রকাশিত হয় “ম্যাক্স কমিক” এর “হান্টস অব হরর” এই কমিক সিরিজের বইতে।লাভক্রাফট-এর এই ছোট গল্পটিকে আধুনিক ভাবে নিজের চিত্র শৈলীর মাধ্যমে পরিপূর্ণ করেন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী রিচার্ড করবিন। সেই কমিক্সটিকেই সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় আমাদের সামনে উপস্থাপণ করেছেন আমার ভাতৃপ্রতীম বন্ধু লুৎফুল কায়সার।লুৎফুল থাকেন ওপার বাংলায়।।উনি একজন নাম করা লেখক ও অনুবাদক।কমিক্সের প্রতি আমাদের দুজনের টান আমাদের মধ্যে আলাপের প্রধান সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করেছে।ফেসবুক-এর মাধ্যমে আমাদের আলাপ।ওঁনার অনূদিত সাহিত্য পড়ার ইচ্ছে আমার অনেক দিনের।এই কমিক্সটির মাধ্যমে সেই ইচ্ছে কিছুটা হলেও পূর্ণ হোলো।ওঁনার এই শৈলীকে আমার ব্লগে স্থান দিতে পেরে আমি খুব আনন্দিত আর আপ্লুত।ওঁনার প্রস্তাবটি না পেলে আমি এটা করতে পারতাম না।
তাহলে আসুন, নীচের
link থেকে Download   করে পড়ে ফেলুন লুৎফুলের অনূদিত এই কমিক্সটি...    http://www.mediafire.com/file/c1m87khcji88k8x/DAGON+%28LUTFUL+KAISER%29.pdf

বৃহস্পতিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

POST NO.16 বইমেলা ও একটি স্বপ্ন পূরণ

বন্ধুরা,শুরু হয়ে গেছে ৪৩তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা ২০১৯।গত ৩১এ জানুয়ারী থেকে শুরু হওয়া এই মেলার আজ অষ্টম দিন।মেলা চলবে আগামী ১১ই ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত।এই আট দিনে বইমেলা থেকেছে অনেক ঘটনার সাক্ষী।সেই ঘটনা গুলো একাধারে যেমন মজার,আবার কিছু ঘটনা বেদনারও।আবার কিছু ঘটনা আছে যা কিছু কিছু নামকরা পাবলিশার্সদের প্রতি ক্রেতাদের ভ্রুকুটির কারণও হয়েছে।
যাক সে কথা।এবার আসি আমার নিজের কথায়।বই আমাকে  সর্বদা টানে।সারা বছর আমি কলেজ ষ্টিটের পথে পথে ঘুরে বেড়াই পুরোনো ও দুষ্প্রাপ্য বইয়ের সন্ধানে।কিন্তু কলকাতা বইমেলার ফ্লেভারটাই আলাদা।ওখানে না যেতে পারলে, বিশাল কিছু একটা মিস হয়ে যাওয়ার চান্স থাকে প্রবল।আর আমি সেই চান্সকে চান্সই দিতে চাই না!
ছোটোদের স্বর্গরাজ্য।
বছরের এই একটা সময়ে আমি সাক্ষাৎ করতে পারি আমার দূর দূরান্তের বন্ধুদের সাথে।তাঁদের মধ্যে বেশীর ভাগ বন্ধুর সাথে আমার আলাপ,ফেসবুকের মাধ্যামেই।সারা বছর নানান কাজের চাপে সবাই সবার সাথে মোলাকাত করতে পারেন না।কিন্তু এই বইমেলা কোথাও যেন,আমাদের এক সূত্রে বেঁধে টেনে নিয়ে আসে অক্ষর শব্দ ও ছন্দের এই পূণ্যভূমিতে।প্রতি বছরের মতো এবারেও সেই টান বা আলাপ চারিতার কোনো অন্যথা হয়নি।গত ২রা ফেব্রুয়ারী প্রথম যাই মেলায়।তারপর গতকাল অর্থাৎ,৬ই ফেব্রুয়ারী আবার গেছিলাম।অনেক ভালো লাগা তৈরী হলো।এই দুই দিন পুরোনো ও নতুন বন্ধুদের সাথে দেখা হোলো,কথা হোলো।এই আনন্দটা আরো কয়েকগুণ বেড়ে যেত যদি জ্যামারের কারণে আমাদের সবার মোবাইল ফোনের সিগন্যাল জ্যাম না হোতো।কিন্তু তাও সব কিছু ছাপিয়ে এই যে আড্ডা,এটা কিন্তু সেরা পাওনা আমাদের সবার কাছেই।
খুব সুন্দর কনসেপ্ট।ভ্রাম্যমাণ পুস্তক বীপণি
আমাদের সবার পছন্দের 'বুক ফার্ম'এর ষ্টল ৩৩৬ এ বাম দিক থেকে সোনাল দা(বসে),বুকফার্ম এর কর্ণধার শান্তনু দা,পাশে সোহেল দা। 
সোহেল দা'র সাথে সুমিত দা (ডান দিকে)

ডবল ফ্যান্টম!!
 Mr.Walker (স্বাগত দত্ত বর্মণ)এর সাথে আমি 'অরণ্যদেব'
জ্যোতির্বাণ দা'র সাথে
বাম দিক থেকে স্বাগত,আমি,সানি,কুন্তল
বিখ্যাত কমিক্স শিল্পী শ্রী দিলীপ দাস স্যারের সাথে আমরা।
(বামদিক থেকে দ্বিতীয় জন)
বাম দিক থেকে রূপক,দেবাশিষ,আমি,স্বাগত,ইন্দ্রনীল দা,রুস্তম দা। 


                           অয়ন দার(সাদা জামা) সাথে আমরা
এক লেপচা বন্ধুর সাথে।মেঘালয় পর্য্যটনের ষ্টলে।
মেলার মুক্ত মঞ্চে "দাঁড়িয়ে আছ তুমি আমার গানের ওপারে" গানটি পরিবেশন করছেন শিল্পী

না,এটা কোনো মূর্তি নয়।ইনি একজন শিপ্লী।ইনি একজন মডেল।রাজা রামমোহন রায় সেজেছেন।কতটা ধৈর্য্য,কতটা অধ্যাবসায় থাকলে,রোজ গারের জন্যে এই ভাবে ঠায় নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যায়!!শত কুর্ণীশ ও কম হবে এঁনার জন্যে।মন থেকে প্রণাম জানাই।
এবারেই প্রথম ড্রোন দেখলাম বইমেলায়।ড্রোনের মাধ্যমে পুরো বই মেলার স্কাই ভিঊ নেওয়ার তোড় জোড় ছলছে।









  

 প্রতি বছর আমি  বইমেলায় গিয়ে বই কেনার থেকে শুরু করে আড্ডা দেওয়ার পাশাপাশি এই সব দারুন দারুন আর্টের ছবিও তুলি।এবারেও তার অন্যথা হোলো না। নতুন বই দুটি কিনেছি।আর সব পুরোনো বই।ফেসবুকে ছবি আছে,তাই এখানে আর দিলাম না।

আচ্ছা এবার আসি,আমার 'স্বপ্ন পূরণ'এর প্রসঙ্গে।বেশ কিছুদিন আগে আমার ফেসবুকীয় বন্ধু অর্পিতা'র মাধ্যমে আমি একটি নতুন পত্রিকা দলের সাথে যুক্ত হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করি।পত্রিকার নাম "রডোডেনড্রন"। একটা লেখা সেখানে আমি দিয়েছিলাম অর্পিতার কথায়।।সেটা যে মোনোনিত হবে তা ভাবিনি।সেটি পরে ছাপাও হয়।এর আগে আমার  অনুবাদ করা কমিক্স বিভিন্ন ম্যাগাজিনে ছাপা হলেও মৌলিক লেখা হিসেবে,তাও আবার ছাপার অক্ষরে এই প্রথম মুক্তি পেল এটি।গল্পের নাম "খাদক"।।আমি আনন্দিত,আপ্লুত।এর পুরো ক্রেডিট কিন্তু অর্পিতারই প্রাপ্য।ও আমাকে এই ব্যাপারে না বললে আমি এই সুন্দর প্রয়াস সম্পর্কে জানতেই পারতাম না।ও খুব সুন্দর লেখা।ওর লেখার বাঁধন বেশ শৈল্পিক।এই পত্রিকায় ওর একটা লেখা আছে।গল্পের নাম "অমানিশার কালো রাত"।এ'ছাড়া আছে আমার অনেক দিনের বন্ধু কুন্তল-এর একটা লেখা।গল্পের নাম "মৃত্যু"।
আমাদের অন্য বন্ধু যেমন- তৃষানী'র লেখা "অপরাজিতা ",সৌমি'র লেখা "আলোর গতিপথে",রাহুল(বুনো হাঁসা)-এর লেখা "চন্দ্রগ্রহণ" পড়ে আমি খুব আনন্দিত ও শিহরীত।ওদের লেখণী যেন উদ্দাম বেগে ছুটে চলে,সেই কামনা করি ঈশ্বরের কাছে। গতকাল বইটা ৪৪৫ নং ষ্টলে আসতে না আসতেই সব সংখ্যা নিঃশেষি হয়ে গেল দেখলাম চোখের সামনে।তবে,আমাদের বন্ধু ও কোষাধ্যক্ষ অনিন্দ্য সান্যাল মহাশয়,আমাদের জন্যে কিছু সংখ্যা নিজের কাছেই রেখে দিয়েছিলেন।তাই শেষে কিছু সংখ্যা পেয়েছি। পেয়ে কী যে খুশী হয়েছি, সেটা বলে বোঝাতে পারবো না।আমাদের মধ্যে এই খুশীর বাতা বরণ তৈরীর জন্যে আমি আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ দেব আমাদের পত্রিকার সম্পাদক তানিয়া সেনগুপ্তঅস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে।কার্যনির্বাহী সম্পাদক সুদেষ্ণা সরকার-কে।আর সহ সম্পাদক পল্লব রায়-কে।এরা না থাকলে এই চারাগাছের জন্ম হোতো না,যাকে অনেকটা পথ চলতে হবে মহীরুহতে পরিণত হওয়ার জন্যে।

আমাদের স্বপ্নের ফসল
"রডোডেনড্রোনিয়ানস"
ডান দিক থেকে পল্লব,রাহুল(বুনো হাঁসা),তানিয়া অস্মিতা,আমি,কুন্তল
বাকীদের খুব মিস করেছিলাম সেদিন।
তানিয়ার সাথে তৃষানী



এক রাশ ভালোলাগা স্মৃতি হয়ে রইলো।